মাধ্যমিক বিদ্যালয়েই কমেছে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী, বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা
দেশে মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক বছরের ব্যবধানে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন কমেছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়েই শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ জন, যা সব স্তরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও এক বছরে দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বেড়েছে। বিষয়টি দেশের শিক্ষা খাতে শিক্ষার্থীসংখ্যার পরিবর্তন, শিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।
ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত মোট ৮৩ হাজার ৪৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৩১ হাজার ১১২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ২২৬ জন।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের শিক্ষা পরিসংখ্যানে এ স্তরগুলোতে ৮২ হাজার ৮৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৯৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯১ জন। ওই বছর শিক্ষক ছিলেন ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৯ জন।
তুলনামূলক হিসাবে দেখা যায়, এক বছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১ হাজার ৩৭৩টি এবং শিক্ষকের সংখ্যা ২৪ হাজার ১২৭ জন বেড়েছে। বিপরীতে শিক্ষার্থী কমেছে ৯ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৯ জন।

সবচেয়ে বেশি কমেছে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে
ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯ জনে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫৪৬ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমেছে ৪ লাখ ৮ হাজার ৫০৭ জন।
শিক্ষার্থী কমার হিসাবে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যায়ই সবচেয়ে এগিয়ে। মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তরে মোট শিক্ষার্থী যে পরিমাণ কমেছে, তার প্রায় ৪৩ শতাংশই কমেছে এ পর্যায়ে।
অন্যান্য স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা
বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫ অনুযায়ী, বিভিন্ন শিক্ষাধারায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ২৯ হাজার ৬৭৩ জন, স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৫ লাখ ৩১ হাজার ৪৩৪ জন, কলেজ পর্যায়ে ৪১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৫ জন, মাদ্রাসায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার ৯৭ জন, স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ লাখ ৫০ হাজার ২৮ জন এবং পেশাগত শিক্ষায় ১ লাখ ৩২ হাজার ৩১৩ জন।
এ ছাড়া শিক্ষক-প্রশিক্ষণ বা টিচার এডুকেশনে ৩১ হাজার ৫৪৯ জন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৮২ জন, সংযুক্ত কারিগরি শিক্ষায় ৩ লাখ ২৬ হাজার ৩২ জন, আপগ্রেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭০ হাজার ৬৬৬ জন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৩৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য আলাদাভাবে গণনা
শিক্ষার্থীসংখ্যার এ পরিসংখ্যান সম্পর্কে ব্যানবেইসের পরিসংখ্যান স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জানান, সংস্থাটির মোট শিক্ষার্থীসংক্রান্ত হিসাবে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। এ হিসাব মূলত প্রাথমিকোত্তর পর্যায়, অর্থাৎ মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তরের শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।
তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হলেও তা প্রাথমিকোত্তর স্তরের মোট শিক্ষার্থীর হিসাবে যোগ করা হয় না। ফলে এক বছরে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে, তা মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তথ্যের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার্থী কমার কারণ অনুসন্ধানের প্রয়োজন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ার বিপরীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি শিক্ষা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য ভর্তি, ঝরে পড়া, শিক্ষা সমাপনের হার, জনমিতিক পরিবর্তন এবং বিভিন্ন শিক্ষাধারায় শিক্ষার্থীদের স্থানান্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী কমার কারণ অনুসন্ধান জরুরি। সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার হার বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫; দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস।
